রমজান মাস তাকওয়া-খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম :


রমজান মাস তাকওয়া-খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম :
বড় বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি ছোছোট ও সাধারণ গুনাহ থেকেও বেঁচে থাকার নাম তাকওয়া ও খোদাভীতিজীবন চলার পথে দুৰ্গম কণ্টকাকীর্ণ পথযাত্রীর মতো অতি সাবধানে পদক্ষেপ ফেলতে হবেছোট গুনাহকে ছোট ও সাধারণ মনে করে অবহেলা করা যাবে নাবরং সেগুলো থেকেও সযত্নে দূরে থাকতে হবেকারণ, ছোট ছোট শিলাখণ্ড মিলেই তো সুবিশাল পর্বতের রূপ ধারণ করে

তাকয়া বা খোদাভীতির মোদ্দাকথা হলো, অন্তকরনে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার ভয় জাগরূক রাখাশরীয়তের বিধিনিষেধ পরিপূর্ণরূপে মেনে চলা। আল্লাহর সন্তুষ্টির সামনে নিজেকে পূর্ণরূপে সঁপে দেওয়াপরকালের জন্য পূর্ণাঙ্গরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করা

যিনি নিজের বাস্তব জীবনে প্রকৃত তাকওয়া ও খোদাভীতি অর্জন করতে সক্ষম হন, তার যেন সবকিছুই অর্জন হয়ে গেলআর এ তাকওয়া ও খোদাভীতি একমাত্র মহান আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ ও অনুকম্পায়ই অর্জন করা সম্ভব হয়একজন প্রকৃত খোদাভীরু তারজীবনের সমস্ত অঙ্গনে নিজেকে আল্লাহর মর্জি মাফিক পরিচালিত করেনসালাতের সময় সালাত কায়েম করেনশরীয়ত নির্ধারিত যাকাত আদায় করেনসওম পালন করেনআল্লাহর পথে জিহাদ করেনহতদরিদ্র ও মুখাপেক্ষী এর দান-খয়রাত করেনইসলামের নির্দিষ্ট কো ক্ষুদ্র অঙ্গনে নিজেকে সীমাবন্ধ করে রাখেন না।এককথায় পুরো জীবনটাই আল্লাহর সন্তুষ্টির সামনে সঁপে দেন
বাসল্লাহ(সা.)এর চাচাতো ভাই, বিশিষ্ট সাহাবী আলী (রা.) আপন ভাই, জাফর (র.) বাস্তব নমুনাতিনি রাসূলের নবুওয়াত প্রাপ্তির প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেনতাঁর সাথে তাঁর সহধর্মিণীও ইসলাম কবুল করেছিলেনমক্কায় অবস্থানকালে কাফেরদের চরম নিগ্রহের শিকার হন তাঁরাকুরাইশরা তাঁদের উপর নির্মম নির্যাতন চালায়এক পর্যায়ে নিরাপত্তার তাগিদে নবীজী তাঁদের সপরিবারে হাবশা [বর্তমান ইথিওপিয়া]তে হিজরত করার নির্দেশ দেনতিনি ছিলেন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্বতাঁর অনুগামী সাথি-সঙ্গীরাও ছিলেন অমায়িক নীতিবানতাঁরা এমন এক অজানা দূরদেশে পাড়ি জমালেন, যেখানকার অধিবাসীদের সাথে তাঁদের কো পূর্বপরিচিতি ছিল নাতাদের ভাষা ও সভ্যতা-সংস্কৃতি সম্পর্কেও কোন ধারণা ছিল নাতথাপিও তাঁরা একাধারে তিন বছর ইথিওপিয়াতে বসবাস করেছিলেন
হঠাৎ একদিন তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছে, কুরাইশরা রাসূলের আনুগত্য মেনে নিয়েছে ফলে তিনি সপরিবারে মক্কায় ফিরে আসেনকিন্তু এসেই বুঝতে পারলেন সংবাদ ভুল ছিলমক্কার বাস্তবতা সংবাদের সম্পূর্ণ উল্টোকুরাইশরা এখনও তাদের পুরোনো আকীদা বিশ্বাসে অটল-অনড়তাদের দাপটে মক্কার পরিবেশ থমথমেএহেন পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ হিজরতের নির্দেশ দেনআবারও তাঁদেরকে ইথিওপিয়ায়
এবার হাবাশায় গিয়ে তাঁরা একটানা সাত বছর প্রবাস জীবন কাটানখায়বার বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ ও হাবাশায় অব মুসলিমদের কাছে সংবাদ পাঠান- তারা যেন মদীনায় ফিরে আসেনতাঁরা মদীনায় ফিরে এলেনমদীনায় পৌছার পর তাঁদের রাসূলুল্লাহ র হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠেরাসূলুল্লাহ আনন্দে জাফর (রা.)এর চোখে-মুখে চুমু খান; তার সঙ্গে আলিঙ্গন করে এবং তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরেন আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে বলে ফেললেন
ما ادري بأيهما أنا أسر ، بفتح خيبر، أو بقدوم جعفر

আমি জানি না, কোন বস্তু আমাকে এত আনন্দিত করছে খায়বার বিজয় না জাফর এর আগমন! [তাবরানী, হাদীস নং ১৪৫২]গঠন-আকৃতি ও দেহবৈশিষ্ট্যের দিক থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং জাফর (রা.) বেশ মিল ছিলযেমন, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই তাকে লক্ষ্য করে বলেন-  أشبهت خلقى وخلقى চারিত্রিক গুণাবলি ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে আমার সাথে তোমার অনেকটা মিল রয়েছে। [তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৫২]
হিজরত থেকে প্রত্যাবর্তন করে জাফর (রা.) মাত্রই মদীনায় বসবাস শুরু করেছেনএরই মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)র কাছে সংবাদ পৌছে- রোমান সৈন্যরা মুসলমানদের উপর আক্রমণ করার জন্য সমবেত হয়েছেফলে রাসূলুল্লাহ রোমান সৈন্যদের মোকাবিলার প্রস্তুতিস্বরূপ মুহাজির আনসারদের সমন্বয়ে একটি মুজাহিদ বাহিনী গঠন করেনযায়েদ ইবনে হারেসাকে তাদের কমান্ডার হিসেবে নির্বাচন করেন অতঃপর মুসলিম সেনাদের সম্বাধোন করে বলেন- إن أصيب زید فجعفر بن أبي طالب على الناس ، فإن أصيب جعفر فعبد الله بن رواحة على الناس
রণাঙ্গনে যদি যায়েদ ইবনে হারেসা শাহাদাত বরণ করে, তা হলে পরবর্তী কমান্ডার ও ঝান্ডা ধারণকারী হবে জাফর ইবনে আবু তালেবজাফর ইবনে আবু তালেব শাহাদত বরণ করলে পরবর্তী কমান্ডার ও ঝান্ডা ধারণকারী হবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাসে ও শাহাদাত বরণ করলে তোমরা নিজেরা পরামর্শ করে আমাদের একজনকে পরবর্তী কমান্ডার নির্বাচন করে নিয়ো[তাবরানী, হাদীস নং ১৯৪]
মুসলিম বাহিনী মুতার ময়দানে পৌছে এক লক্ষ রোমান সৈন্যের সাথে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন
ুদ্ধ শুরু হলযায়েদ ইবনে হারেসা ঝান্ডা ধারণ করলেনএক পর্যায়ে তিনি শত্রুপক্ষের আঘাতে আঘাতে শাহাদাতের অমীয় সুধা পানকরেনতারপর ঝান্ডা ধারণ করেন জাফর ইবনে আবু তালেব তিনি প্রাণের আশা ত্যাগ করে প্রথমেই লোয়ারের আঘাতে স্বীয় ঘোড়ার পা কেটে দেনঅতঃপর এই কবিতা আবৃত্তি করতে করতে অশ্বপৃষ্ঠ থেকে লাফিয়ে পড়েনواقترابها ... طيبة باردة شرابها يا حبذا الجنة
আহ! কী সুন্দর মনোরম জান্নাত-বাগিচা, আর তা এত নিকটে; কী সুমিষ্ট তৃপ্তিদায়ক তার অমীয় সুধা!
والروم روم قد دنا عذابها ... على إن لأقيتها ضرابها
আর রোমানদের কথা? তাদের শাস্তি তো অতি নিকটে, তাগুত শক্তি কাফের সম্প্রদায় তো সুদূর পরাহত আমার আবশ্যক করণীয় হল, তাদের মোকাবিলায় অবর্তীণ হওয়া
এরপর তিনি ঝান্ডা হাতে বীরবিক্রমে শত্রুসৈন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েনঅপ্রতিরোধ্য ঝড়ের ন্যায় অনবরত তাদের উপর তলোয়ার চালাতে থাকেন৷ শত্রুসৈন্যের আঘাতও তাঁর উপর পড়তে থাকেনিজের দিকে কোনরূপ খেয়াল না করে একের পর এক বজ্র আঘাততিনি করেই যাচ্ছিলেনইত্যবসরে এক রোমান সৈন্য তাঁর ডান হাতে সজোরে আঘাত করে দেহ থেকে তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়তথাপি তিনি ইসলামী ঝান্ডা মাটিতে পড়তে দেননিবাম হাতে ঝান্ডা উড্ডীন রাখেনকিছুক্ষণ পর শত্রুসৈন্যরা তাঁর বাম হাতও দেহ থেকে বিচ্ছিন্নকরে দেয়তারপরও তিনি ইসলামী ঝান্ডা মাটিতে পড়তে দেননিমৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাহুমূল ও চিবুকের সাহায্যে ইসলামী ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখেনশেষ পর্যন্ত শত্রুদের উপর্যুপরি আঘাত সহ্য করতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েনপান করেন চির কাঙ্ক্ষিত শাহাদাতের অমীয় সুধা

আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণনা করেন, আমি জাফরের দেহে ৯০ টি আঘাতের চিহ্ন পেয়েছিতার সব কটি আঘাতই ছিল দেহের সম্মুখভাগেপশ্চাৎভাগে একটি আঘাতও ছিল না
জাফর শাহাদাত বরণ করার পর ঝান্ডা ধারণ করেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে শত্রুদের আঘাতে আঘাতে শাহাদাতের সৌভাগ্য লাভ করেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) শাহাদাতের পর ঝান্ডা ধারণ করেন খালেদ ইবনে ওয়ালিদ তিনি ঝান্ডা ধারণের কিছুক্ষণের মধ্যেই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনেনএ ছিল মুতা রণাঙ্গনে মুজাহিদদের যুদ্ধ অবস্থার বর্ণনা
অপরদিকে আনাস (রা.) বলেন, মদীনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে এসে মিম্বারে আরোহণ করে বললেন আমি কী তোমাদেরকে রণাঙ্গনে মুসলিম সেনাদের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিব না?
আনাস (রা.)বলেন, আমরা বললাম, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ!
অতঃপর তিনি যুদ্ধের বর্ণনা দিতে শুরু করলেন- এইমাত্র যায়েদ ঝান্ডা ধারণ করল এবং শত্রুপক্ষের আঘাতে আঘাতে শাহাদাত বরণ করলতোমরা তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাঁরা [সাহাবায়ে কেরাম] বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে ক্ষমা করে দিনতাঁর উপর রহম করুন
তারপর তিনি বললেন, এখন জাফর ঝান্ডা হাতে নিল এবং যুদ্ধ করতে করতে সে-ও শাহাদাত বরণ করলতোমরা তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর
তাঁরা [সাহাবায়ে কেরাম] বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে ক্ষমা করে দিনতাঁর উপর রহম করুন
এরপর তিনি বললেন, এখন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ঝান্ডা হাতে নিল এবং আহত হয়ে সে-ও শাহাদাত বরণ করলতোমরা তার জন্যআল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর
তাঁরা [সাহাবায়ে কেরাম] বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে ক্ষমা করে দিনতাঁর উপর রহম করুন।। নবীজী (সা.) এর দুচোখ দিয়ে তখন অশ্রু ঝরছিলতিনি মিম্বার থেকে নীচে নেমে এলেন এবং জাফর এর বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলেনজাফর (রা.) র স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস , বলেন, আমি আমার সন্তানদের যত্নসহ গোসল করিয়ে গায়ে তেল মেখে পরিপাটি করে রেখেছিলাম এবং জাফর জিহাদের ময়দান থেকে ফিরে আসবে- এই আশায় রুটির খামির তৈরি করছিলামএমন সময় রাসূলুল্লাহ আমাদের ঘরের কাছে এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেনআমার অনুমতি পেয়ে তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন অতঃপর বললেন, জাফরের সন্তানদের আমার কাছে নিয়ে এসো
তারা রাসূলের আওয়াজ পেয়ে দৌড়ে এলনবীজীকে আঁকড়ে ধরলতাঁর গালে চুমু খেল রাসূলুল্লাহ ও তাদের আদর করলেনস্নেহে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন নবীজী তখন কাঁদছিলেনতিনি আবার তাদের মাথায় হাত বুলাতে লাগলেন আসমা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কাঁদছেন কেন?
আসমা (রা.) বলেন জাফরের কো সংবাদ কি আপনার কাছে পৌঁছেছে? নবীজী নীরবতাঁর মুখে কোনো কথা নেইআসমা , আবার প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে কি জাফরের কো সংবাদ পৌঁছেছে?
এবার নবীজী উত্তর দিলেন- জাফর শাহাদাত বরণ করেছে
এমন সংবাদের জন্য আসমা (রা.)তখন প্রস্তুত ছিলেন নাতাই তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কিছুটা হতচকিত হয়ে বলে ফেললেন, তা হলে কি জাফরের সন্তানরা এখন এতিম? রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, তুমি কি তাদের দরিদ্রতার ভয় করছ? ভয় নেইআজ থেকে আমিই তাদের অভিভাবক; এখন এবং ভবিষ্যতেও
রাসুলুল্লাহ (সা.) যা তাদের নিয়ে নিজ বাড়ি ফিরে এলেনপরিবারকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য কিছু খাবার তৈরি কর কেননা, তারা এখন জাফরের মৃত্যুশোকে শোকাহত কাতরহাঁ, জাফর (রা.) শাহাদাত বরণ করেছেনতিনি পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, সহায়-সম্পত্তি সবকিছু বিসর্জন দিয়ে এমন এক শান্তিময় বাগানে স্থায়ীভাবে প্রবেশ করেছেন, যার পরিব্যাপ্তি আসমান-জমিনের প্রশস্ততার চাইতে বেশি
রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, জাফর দুটি রক্তিম ডানা মেলে জান্নাতে উড়াউড়ি করছে এটাই তাকওয়া খোদাভীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তনিজের সর্বস্ব বিলীন করে দিয়েছেন স্রষ্টার আনুগত্যেঅতএব, একজন সওম পালনকারীর তাকওয়া খোদাভীতি তো এমনই হওয়া উচিতযে ব্যক্তি সওম রেখেও দৃষ্টিকে হেফাজত করল না, যবানকে সংযত রাখল না, কানকে অবৈধ জিনিস শোনা থেকে হেফাজত করল না, সে কীভাবে তাকওয়া অবলম্বন করল?
আফসোস! বহু মানুষ দিনের বেলায় সওম পালন করে পুণ্যার্জন করেআর রাতের বেলায় নাচ-গানের ছবি-ভিডিও দেখে সব ধুয়ে-মুছে শেষ করে ফেলেপ্রকৃত শয়তানকে তো আল্লাহ রামাদানে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখেন, কিন্তু নফস শয়তান মানব শয়তান এগুলোকে সুশোভিত আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করেমানব শয়তানরাই প্রকৃত শয়তানের মিশন বাস্তবায়নে নিয়োজিত। তারা কেবল সিয়াম পালনকারীর রাতই নষ্ট করে না, তাদের দিনগুলোও বিনষ্ট করে ছাড়ে! আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুনআমীন

No comments

মন্তব্যের জন্য আল বেলায়েত মিডিয়া এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.