তওবার মাস মাহে রমযান
তাওবার
মাস মাহে রমযান:সিয়াম পালনকারী ভাই-বোনদের বলছি! আমরা তো একমাত্র মহা
ক্ষমাশীল আল্লাহরই
ইবাদত করি। তিনি ক্ষমা করতে ভাল বাসেন। তাঁর দয়া ও রহমত, তাঁর ক্রোধের উপর
প্রবল। তাঁর তাঁর ক্ষমা তাঁর শাস্তি অপেক্ষা অধিক দ্রুতগামী। বান্দার পক্ষ থেকে কোন পাপ সংঘটিত হয়ে
গেলে, অনুশোচনা করত: তাঁর দিকে ধাবিত হওয়াকে তিনি
খুব ভালবাসেন। তা ছাড়া প্রকৃত দ্বীনদার ও খোদাভীরু
ব্যক্তির অভ্যাস হচ্ছে- কোন ত্রুটি হয়ে গেলে দ্রুত তাওবা করে নেওয়া। সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে এ প্রসঙ্গে
বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ কায়া ইরশাদ করেছেন-
يا أيها الناس توبوا إلى الله فإني أتوب إلى الله في اليوم مأة مرةতোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর। আমি প্রতিদিন শত বার তাওবা করি। [হাদীস নং ৩১২৯]
প্রতি
রাতে আল্লাহ যা মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন। সুতরাং, আমরা যেন মুক্তিপ্রাপ্ত সেসকল লোকের মধ্যে গণ্য হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। পবিত্র রামাদান সেইসব ব্যক্তির জন্য এক
মহান ও সুবর্ণ সুযোগ, যারা ইতিপূর্বে সালাতে অবহেলা, অলসতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি করেছে। মনে রাখবেন, মুসলিম ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য
নির্ণয়কারী হচ্ছে এই সালাত।
রামাদান
ধূমপায়ীর জন্য তাওবা করার এক সুবর্ণ সুযোগ। রামাদান আত্মীয়তা ছিন্নকারীর জন্য
আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি করার এক মহা সুযোগ।মনে রাখবেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। মহান আল্লাহ ও পবিত্র কুরআনের প্রায় ১৯ স্থানে আমাদেরকে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার জন্য আদেশ করেছেন ৩
আয়াতে যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন।
সুতরাং, পরস্পর সাথি-সঙ্গী, ভাই-বন্ধু, পরিবারের কোন সদস্য বা কোন মুসলমানের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ ও মনোমালিন্য কিংবা বিচ্ছিন্নতার ভাব দেখা দিলে দ্রুত তার সমাধান ও সংশোধন করে নেওয়া ঈমানের দাবি। আমাদের পেটকে খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত রাখা। যেমন অপরিহার্য, তেমনি এ সকল পঙ্কিলতা থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকাটাও আমাদের জন্য অপরিহার্য। রামাদান ওই ব্যক্তির জন্যও এক সুবর্ণ সুযোগ, যে বিগত দিনগুলোতে নিজেকে অবৈধ কাজে জড়িয়ে রেখেছিল। যেমন, অনেকেই হয়তো পূর্বে না-জায়েয় জিনিসের ব্যবসা বাণিজ্য করত, বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করত, অশ্লীল মাগ্যাজিন বিক্রি করত, সিনেমা দেখত, গান শুনত, শরীয়ত অসমর্থিত পোশাক আশাক পরিধান করত ইত্যাদি আরও বিভিন্ন ধরনের কোন না কোন অবৈধ কাজে জড়িত ছিল।
তাদের বলুন, তারা যেন এসব থেকে ফিরে আসে, তাওবা করে। আল্লাহ তায়ালা এ অনু-পরমাণুরও হিসাব রাখেন। সবকিছুই আমলনামায় সংরক্ষণ করেন।
তাদেরকে একথাও জানিয়ে দিন- অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেসকল লেনদেন যা অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করে, তা কেবল জাহান্নামের আগুনকেই উত্তপ্ত করে। তাদেরকে মনে রাখতে হবে কিয়ামতের দিন এসবের জওয়াব না দিয়ে এক কদমও সামনে অগ্রসর হতে পারবে না। আপন জায়গা থেকে একচুলও নড়তে পারবে না। কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে- সম্পদ কীভাবে কোন উৎস থেকে উপার্জন ও সঞ্চয় করেছ এবং কোন খাতে কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করেছ?
পবিত্র রামাদান আমাদের সকলের জন্যই অন্তরকে গুনাহ মুক্ত করার এক সুবর্ণ সুযোগ। আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই এই আশংকা করা যায় যে, আমাদের বহু গুনাহও হয়তো আমাদের সঙ্গে আমাদের কবরে যাবে। বহু গুনাহ হয়তো আমরা কবরে চলে যাওয়ার পরও একটা অংশ নিয়মিত আমাদের কবরে পৌঁছতে থাকবে। যার ফলে আমাদেরকে মন্দ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। আল্লাহ , আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।
মনে রাখবেন, কোনো নিষিদ্ধ বস্তু ক্রয়-বিক্রয় করে অপরাধের সহযোগিতা করা, অনৈতিক কানেকশন সেন্টার খোলা, অশালীন পত্র পত্রিকা ও ম্যাগাজিন ক্রয়-বিক্রয় করা, নেশাযুক্ত পানীয় ও তামাকজাত পণ্য ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করা- এ সবই অপরাধ।
জেনে রাখা ভাল- অপরাধে সহযোগিতা করা অপরাধ করারই নামান্তর। কেউ কাউকে অন্যায় ও কু-পথের পরামর্শ দিলে পরামর্শদাতাও সে অপরাধের সমান ভাগীদার হবে।
আবু হামেদ ইমাম গাযালী (রহ.) বলেন, ওই ব্যক্তির জন্য খুশির সংবাদ, যে মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথে তাঁর গুনাহগুলোও মারা যায়। আর দুঃসংবাদ ওই ব্যক্তির জন্য, যে মৃত্যুবরণ করার পরও তার গুনাহগুলো থেকে যায়। শত বছর, শত শত বছর বা তার চাইতেও অধিক সময়কাল যাবত জীবন্ত থেকে যায়। এ কারণে তার কবরে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। কিয়ামতের দিন তাকে এ সকল গুনাহের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন
انا نحن نحى الموت ونكتب ما قدموا واثارهم وكل شيء أحصينه في إمام مبين
আমিই মৃতদের জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি। সূরা ইয়াসীন : ১২]
তবে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও অনুকম্পা থেকে আমাদের নিরাশ হওয়া উচিত নয়। তাঁর রহমতের দরজা সবার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। তাই দোয়া করি- জান্নাতের দরজাসমূহ প্রত্যেক মুমিনের জন্যই উন্মোচিত হোক; জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ হোক। যিনি রামাদান পেয়ে আমল করে, আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করে নিজের পাপসমূহ ক্ষমা করাতে পারেন, নিজের অন্যায় ক্রিয়াদি সংশোধন করে নিতে পারেন, তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়। তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
رغم أنفه ثم رغم أنفه ثم رغم أنفه من أدرك رمضان ولم يغفر له.
ওই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যে রামাদান পেয়েও নিজের পাপরাজি ক্ষমা করাতে পারল না। [সহীহ মুসলিম : হাদীস নং ৬৬৭৫।
সওম পালনকারী ভাই-বোনদের বলছি! এই মহান পুণ্যময় মাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে- এ মাসে মানুষকে অধিক হারে। আল্লাহ এর দিকে আহ্বান করা; কল্যাণের উপদেশ দেওয়া। দেখবেন, বহু মানুষ আপনাদের প্রচেষ্টায় তাদের অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে ফিরে আসছে। ভাল ও পুণ্যময় কাজ আঞ্জাম দেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেককে দেখবেন, সর্বশক্তি দিয়ে পুণ্যকর্মে লেগে গেছে। রামাদানের পূর্বে যেসকল অন্যায়-অপকর্ম ও গুনাহের কাজ করত, সেসব থেকে বহু বহু দূরে অবস্থান করছে।
অতএব, আসুন! আমরা সকলেই এ মহান সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।
কত অবাধ্য ও না-ফরমান মানুষ এই মাসে মহান আল্লাহ আল-র দরবারে তাওবা করে ভাল হয়ে যায়! সুপথে ফিরে আসে! কারণ, কেউ হয়তো তাদেরকে কুরআনের দু’একটি আয়াত শুনিয়েছে অথবা কোন একটি উপদেশ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যার ফলে তাদের হৃদয় বিগলিত হয়ে গেছে।
ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم
আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়েত দান করেন, তা হলে এটা তোমার জন্য একটি লাল উটের চেয়েও শ্রেয়। [হাদীস। নং ৬৩৭৬]।
তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
কত অবাধ্য ও না-ফরমান মানুষ এই মাসে মহান আল্লাহ আল-র দরবারে তাওবা করে ভাল হয়ে যায়! সুপথে ফিরে আসে! কারণ, কেউ হয়তো তাদেরকে কুরআনের দু’একটি আয়াত শুনিয়েছে অথবা কোন একটি উপদেশ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যার ফলে তাদের হৃদয় বিগলিত হয়ে গেছে।
ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم
আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়েত দান করেন, তা হলে এটা তোমার জন্য একটি লাল উটের চেয়েও শ্রেয়। [হাদীস। নং ৬৩৭৬]।
তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
إن الله وملائكته حتى
النملة في جحرها وحتى الحوت في البحر لَيصلون على معلم الناس الخير
আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ, সকল পশুপাখি, সমুদ্রের মৎসরাজি এমনকি গর্তের পিপীলিকাসহ সবকিছুই মানুষকে উত্তম ও কল্যাণের শিক্ষা দানকারীর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকে। [হাদীস নং ২৬৮৫]।
হতে পারে আল্লাহ তায়ালার দিকে আহ্বানকারীর একটি সাধারণ বাক্য একজন মানুষের সংশোধন ও সৎপথ প্রাপ্ত হওয়ার কারণ হয়ে যাবে। ‘আত-তাওয়াবীন’ নামক গ্রন্থে ইমাম ইবনে কুদামা রা. আবদুল ওয়াহিদ এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, আমরা একটি সমুদ্র জাহাজে ছিলাম। বাতাস আমাদেরকে একটি উপদ্বীপে নিক্ষেপ করল। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম- সে পাথরের পূজা করছে। আমরা তাকে বললাম, ওহে! তুমি কার উপাসনা করছ? সে পাথরের দিকে ইশারা করল। আমরা বললাম, এটা উপাসনার উপযুক্ত কোন প্রভু নয়।
সে বলল, তা হলে তোমরা কার উপাসনা কর?
আমরা বললাম, এক আল্লাহর।
সে বলল, আল্লাহ আবার কী?
আমরা বললাম, আকাশে যাঁর আসন; সমস্ত জগতে যাঁর রাজত্ব; জীবন-মরণ যাঁর নির্দেশে।
সে বলল, তোমরা তাঁর পরিচয় পেলে কীভাবে?
আমরা বললাম, মহান আল্লাহ যা আমাদের নিকট তাঁর একজন দূত পাঠিয়েছেন। একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে সে সম্পর্কে অবগত করেছেন।
সে বলল, রাসূল এসে কী করেছেন? আমরা বললাম, তিনি রিসালাত [তাঁর যে দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠা করেছেন। অতঃপর আল্লাহ ও তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন।
সে বলল, তা হলে তোমাদের কাছে কি তিনি কোন নিদর্শন রেখে গেছেন?
আমরা বললাম, হাঁ; তিনি আমাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার কালাম রেখে গেছেন।
সে বলল, দেখাও তো দেখি আল্লাহর কালাম রাজাধিরাজের কালাম তো সুন্দর হওয়ার কথা।
আমরা তাকে কুরআনের একটি কপি বের করে দেখালাম। সেখান থেকে একটি সূরা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। তিলাওয়াত করতেই থাকলাম আর সে কাঁদতেই থাকল। এক সময় সূরা শেষ হল। সে বলল, এই বাণীর মালিকের অবাধ্য হওয়া উচিত নয়- এ বলে সে। ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। আমরা তাকে আমাদের সাথে নিয়ে এসে ইসলামের বিধি-বিধান ও কুরআনের কয়েকটি সূরা শিক্ষা দিলাম।
এক সময় রাতের গভীর অন্ধকার যখন আমাদের ছেয়ে ফেলল, আর আমরা ইশার সালাত আদায় করে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে লাগলাম, তখন সে আমাদের কাছে এসে বলল- ওহে লোক সকল! যে প্রভুর পরিচয় তোমরা আমাকে দিয়েছ, তিনি কি ঘুমান?
আমরা বললাম, হে আল্লাহর বান্দা তিনি তো মহাপরাক্রমশালী! তিনি কখনও ঘুমান না। এক মুহূর্তের জন্যও না। এমনকি তন্দ্রাও তাঁকে কখনও স্পর্শ করতে পারে না।।
সে বলল, কত নিকৃষ্ট অনুসারী তোমরা! তোমাদের প্রভু সদা জাগ্রত থাকেন আর তোমরা তাঁকে রেখে ঘুমিয়ে পড়!
অতঃপর আমরা আমাদের সাথিদের কাছে পৌঁছে বললাম, এ তো সদ্য ইসলাম গ্রহণ করেছে। তার তো কিছু জিনিসের প্রয়োজনন রয়েছে। এরপর আমরা কিছু রৌপ্যমুদ্রা একত্র করে তার হাতে দিলাম। এগুলো দেখে সে বলল, এসব কী? আমরা বললাম, তুমি তোমার প্রয়োজনের ক্ষেত্রে খরচ করো
সবিস্ময়ে সে বলল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! তোমরা আমাকে এমন পথের সন্ধান দিয়েছ যে পথে তোমরা নিজেরাই চলনা। আমিতো সমুদ্র উপকুলে তাকে (আল্লাহ) ছেড়ে নিষ্প্রান পাথরের পুরা করতাম তখন তিনি আমার কোন ক্ষতি সাধন করেননি। আর এখন যখন তাকে আমি চিনতে পেরেছি তখন কি তিনি আমার ক্ষতি করবেন? কিছুদিন পর শুনতে পেলাম তিনি মৃত্যু শয্যায় শায়িত । আমি তার কাছে গেলাম তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার কি কোন চাহিদা আছে? সে বলল আমার সকল চাহিদা সেই সত্বা পুরন করে দিয়েছেন। যিনি তোমাদেরকে আমার হিদায়াতের জন্য এই উপকুলে এনে দিয়েছেন।
আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ, সকল পশুপাখি, সমুদ্রের মৎসরাজি এমনকি গর্তের পিপীলিকাসহ সবকিছুই মানুষকে উত্তম ও কল্যাণের শিক্ষা দানকারীর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকে। [হাদীস নং ২৬৮৫]।
হতে পারে আল্লাহ তায়ালার দিকে আহ্বানকারীর একটি সাধারণ বাক্য একজন মানুষের সংশোধন ও সৎপথ প্রাপ্ত হওয়ার কারণ হয়ে যাবে। ‘আত-তাওয়াবীন’ নামক গ্রন্থে ইমাম ইবনে কুদামা রা. আবদুল ওয়াহিদ এর সূত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, আমরা একটি সমুদ্র জাহাজে ছিলাম। বাতাস আমাদেরকে একটি উপদ্বীপে নিক্ষেপ করল। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম- সে পাথরের পূজা করছে। আমরা তাকে বললাম, ওহে! তুমি কার উপাসনা করছ? সে পাথরের দিকে ইশারা করল। আমরা বললাম, এটা উপাসনার উপযুক্ত কোন প্রভু নয়।
সে বলল, তা হলে তোমরা কার উপাসনা কর?
আমরা বললাম, এক আল্লাহর।
সে বলল, আল্লাহ আবার কী?
আমরা বললাম, আকাশে যাঁর আসন; সমস্ত জগতে যাঁর রাজত্ব; জীবন-মরণ যাঁর নির্দেশে।
সে বলল, তোমরা তাঁর পরিচয় পেলে কীভাবে?
আমরা বললাম, মহান আল্লাহ যা আমাদের নিকট তাঁর একজন দূত পাঠিয়েছেন। একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে সে সম্পর্কে অবগত করেছেন।
সে বলল, রাসূল এসে কী করেছেন? আমরা বললাম, তিনি রিসালাত [তাঁর যে দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠা করেছেন। অতঃপর আল্লাহ ও তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন।
সে বলল, তা হলে তোমাদের কাছে কি তিনি কোন নিদর্শন রেখে গেছেন?
আমরা বললাম, হাঁ; তিনি আমাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার কালাম রেখে গেছেন।
সে বলল, দেখাও তো দেখি আল্লাহর কালাম রাজাধিরাজের কালাম তো সুন্দর হওয়ার কথা।
আমরা তাকে কুরআনের একটি কপি বের করে দেখালাম। সেখান থেকে একটি সূরা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। তিলাওয়াত করতেই থাকলাম আর সে কাঁদতেই থাকল। এক সময় সূরা শেষ হল। সে বলল, এই বাণীর মালিকের অবাধ্য হওয়া উচিত নয়- এ বলে সে। ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। আমরা তাকে আমাদের সাথে নিয়ে এসে ইসলামের বিধি-বিধান ও কুরআনের কয়েকটি সূরা শিক্ষা দিলাম।
এক সময় রাতের গভীর অন্ধকার যখন আমাদের ছেয়ে ফেলল, আর আমরা ইশার সালাত আদায় করে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে লাগলাম, তখন সে আমাদের কাছে এসে বলল- ওহে লোক সকল! যে প্রভুর পরিচয় তোমরা আমাকে দিয়েছ, তিনি কি ঘুমান?
আমরা বললাম, হে আল্লাহর বান্দা তিনি তো মহাপরাক্রমশালী! তিনি কখনও ঘুমান না। এক মুহূর্তের জন্যও না। এমনকি তন্দ্রাও তাঁকে কখনও স্পর্শ করতে পারে না।।
সে বলল, কত নিকৃষ্ট অনুসারী তোমরা! তোমাদের প্রভু সদা জাগ্রত থাকেন আর তোমরা তাঁকে রেখে ঘুমিয়ে পড়!
অতঃপর আমরা আমাদের সাথিদের কাছে পৌঁছে বললাম, এ তো সদ্য ইসলাম গ্রহণ করেছে। তার তো কিছু জিনিসের প্রয়োজনন রয়েছে। এরপর আমরা কিছু রৌপ্যমুদ্রা একত্র করে তার হাতে দিলাম। এগুলো দেখে সে বলল, এসব কী? আমরা বললাম, তুমি তোমার প্রয়োজনের ক্ষেত্রে খরচ করো
সবিস্ময়ে সে বলল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! তোমরা আমাকে এমন পথের সন্ধান দিয়েছ যে পথে তোমরা নিজেরাই চলনা। আমিতো সমুদ্র উপকুলে তাকে (আল্লাহ) ছেড়ে নিষ্প্রান পাথরের পুরা করতাম তখন তিনি আমার কোন ক্ষতি সাধন করেননি। আর এখন যখন তাকে আমি চিনতে পেরেছি তখন কি তিনি আমার ক্ষতি করবেন? কিছুদিন পর শুনতে পেলাম তিনি মৃত্যু শয্যায় শায়িত । আমি তার কাছে গেলাম তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার কি কোন চাহিদা আছে? সে বলল আমার সকল চাহিদা সেই সত্বা পুরন করে দিয়েছেন। যিনি তোমাদেরকে আমার হিদায়াতের জন্য এই উপকুলে এনে দিয়েছেন।
মানষকে সৎপথ
প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সততা, তীক্ষ্ণতা, বুদ্ধিমত্তা ও চরিত্র আদর্শের দিক বিবেচনায় রাসূলুল্লাহর মতো আর কেউ নেই। তিনি সর্বত্র সবসময় সবাইকে আল্লাহ তায়ালার দিকে আহ্বান করতেন। যে তাঁকে ভালবাসত এবং
যে তাঁকে ঘৃণা করত সকলকেই দ্বীনের প্রতি আহ্বান করতেন। তদ্রপ যে তাঁর উপকার
করত এবং যে তাঁর ক্ষতিসাধন করত সকলকেই দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দিতেন। তিনি কেবল সমাজপতি, সমাজের বিশিষ্ট
ব্যক্তিবর্গ ও ক্ষমতাবান লোকদের সাথে ওঠা-বসা
করতেন না,
বরং ছোট-বড় ধনী-দরিদ্র, ভৃত্য-মনিব সকলের
সঙ্গেই চলাফেরা করতেন; সকলের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন; সকলের সাথেই ওঠা-বসা করতেন।
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আমরা যেন কেউই এই মহান সুযোগ হাতছাড়া না করি।
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আমরা যেন কেউই এই মহান সুযোগ হাতছাড়া না করি।
কোন ব্যবসায়ী যদি
তার ব্যবসার কারণে, কোন অভিনেতা যদি তার অভিনয়ের কারণে, কোন গায়ক যদি তার গান চর্চার কারণে এই
মহান সুযোগটি উপেক্ষা করেও, তা হলেও কিন্তু
তাদেরকে সুপরামর্শ ও
সঠিক পথ-নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগটি হাতছাড়া করা
আমাদের কারো জন্যই উচিত হবে না
তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে সাধারণ একটি বাক্য উচ্চারণ করুন, সাদাসিধেভাবে দ্বীনের সঠিক দাওয়াতটি তাদের কাছে পৌঁছে দিন, হতে পারে আপনার এই সাদাসিধে ও সরল উচ্চারণের কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তর্চক্ষু খুলে দিবেন। হেদায়েতের জন্য তাদের বক্ষকে উম্মুক্ত করে দিবেন।
দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা- তিনি যেন আমাদের সকলকে এই মহৎ কাজে অংশগ্রহণ করার তাওফীক দান করেন; আমাদের নিজেদের হেদায়েত দান করেন; অন্যদের সৎ পথে আহ্বানকারী ও হেদায়েতের পথে দাওয়াত দানকারীরূপে কবুল করেন। আমীন।
তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে সাধারণ একটি বাক্য উচ্চারণ করুন, সাদাসিধেভাবে দ্বীনের সঠিক দাওয়াতটি তাদের কাছে পৌঁছে দিন, হতে পারে আপনার এই সাদাসিধে ও সরল উচ্চারণের কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তর্চক্ষু খুলে দিবেন। হেদায়েতের জন্য তাদের বক্ষকে উম্মুক্ত করে দিবেন।
দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা- তিনি যেন আমাদের সকলকে এই মহৎ কাজে অংশগ্রহণ করার তাওফীক দান করেন; আমাদের নিজেদের হেদায়েত দান করেন; অন্যদের সৎ পথে আহ্বানকারী ও হেদায়েতের পথে দাওয়াত দানকারীরূপে কবুল করেন। আমীন।

No comments
মন্তব্যের জন্য আল বেলায়েত মিডিয়া এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।