কুরআন তিলাওয়াতের কিছু আদব:
কুরআন তিলাওয়াতের কিছু আদব:
- পবিত্রতা অর্জন করা।
- তিলাওয়াতের পূর্বে মিসওয়াক করে হাত-মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া।
- ‘আউযুবিল্লাহ...’ ও ‘বিসমিল্লাহ...' পড়ে তিলাওয়াত শুরু করা।
- তারতীলের সাথে, থেমে থেমে সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
زينوا
القرآن بأصواتكم فإن الصوت الحسن يزيد القرآن حسنا
তোমরা সুন্দর সুমধুর কণ্ঠে কুরআনের মাধুর্যতা রক্ষা করে তিলাওয়াত কর। কেননা, নিশ্চয় সুমধুর
কন্ঠের তিলাওয়াত কুরআনের মাধুর্যতা আরও বৃদ্ধি করে দেয়। [সুনান ইবনে মাজাহ:
হাদীস নং ১৩৪২]
- কারও জন্য কুরআন তিলাওয়াত কষ্টসাধ্য হলেও ধৈর্যের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা।
রাসূলুল্লাহ , ইরশাদ করেছেন-
الذي يقرأ
القرآن وهو ماهر به مع السفرة الكرام البررة والذي يقرؤه وهو عليه شاق له أجران
কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি ওই সকল নেককার
ফেরেশতাদের দলভুক্ত হবে, যারা লেখার কাজে নিয়োজিত। আর যে ব্যক্তি
কষ্ট করে ঠেকে ঠেকে কুরআন তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে। [সহীহ বুখারী,
হাদীস নং ২৯৮০]।
- অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তিলাওয়াত করা এবং কান্নার চেষ্টা করা। কান্না না এলে কান্নার ভাব প্রকাশ করা। এই শ্রেণির লোকদের প্রশংসা করেই আল্লাহ এই পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
ويخرون
للاذقان يبكون ويزيدهم خشوعا
তারা ক্রন্দন করতে করতে নতমস্তকে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়ভাব আরও বৃদ্ধি পায়। [সূরা বনী ইসরাঈল : ১০৯]।
- তিলাওয়াতের সময় বিলাপ ও চেঁচামেচি না করা। কারণ, এটা রাসূলুল্লাহ ও সাহাবায়ে কেরামের পথ নয়। যেমনটা বর্তমানে রামাদান মাস এলে অনেক মসজিদে দেখা যায়। এ এক বিরক্তিকর পরিস্থিতি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম তিলাওয়াতের সময় কখনও এরকম বিলাপ ও চেঁচামেচি করতেন না। অতএব, আমাদেরও সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত।
- কুরআনের অর্থ ও মর্ম বুঝে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করা। প্রয়োজনে সময়-সুযোগমত তাফসীর গ্রন্থ অধ্যয়ন করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে পুরো বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর মাঝে কুরআন বুঝার ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা ও অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আপনি কোন একজন মুসলিমকে প্রশ্ন করুন- তুমি কি সূরা ইখলাস পার? দেখবেন, সে আপনাকে সাথে সাথেই মুখস্ত শুনিয়ে দেবে। পরক্ষণেই প্রশ্ন করুন। এবার বল তো, সুরা ইখলাসের মধ্যে আস সমাদ’ শব্দটির অর্থ কী? কিংবা যে সুরা ফালাক, আদিয়াত ইত্যাদি সূরাগুলো পারে, তাকে জিজ্ঞাসা করুন- ‘ফালাক’, ‘গসিকীন ইযা ওয়াকাব' কিংবা 'ওয়াল আদিয়াত ইত্যাদি শব্দগুলোর অর্থ কী? দেখবেন, সে এগুলোর উত্তর দিতে পারছে না। এ ধরনের যেকোন প্রশ্নের উত্তর আসবে না' দিয়ে!
প্রিয় পাঠক! লক্ষ্য করুন, আমরা কিন্তু
তাদেরকে সূরা বাকারা বা সূরা আলে ইমরানের বড় কোন আয়াত
সম্পর্কে প্রশ্ন করার কথা বলছি ; বরং বলছি কুরআনের সে অংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা
করার কথা, যে অংশ সে মুখস্ত করেছে এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করে।
প্রিয় পাঠক! প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা কিছু সময় তাফসীর গ্রন্থ অধ্যয়ন করা এবং কুরআনের অর্থ ও মর্ম বোঝার চেষ্টা করা কি তাদের পক্ষে
এব আমি বলব- যিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন, তার উচিত তলাওয়াতের অংশটুকুর অর্থ ও মর্ম বোঝারও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়া।
প্রিয় পাঠক! প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা কিছু সময় তাফসীর গ্রন্থ অধ্যয়ন করা এবং কুরআনের অর্থ ও মর্ম বোঝার চেষ্টা করা কি তাদের পক্ষে
এব আমি বলব- যিনি কুরআন তিলাওয়াত করেন, তার উচিত তলাওয়াতের অংশটুকুর অর্থ ও মর্ম বোঝারও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়া।
মহান এ রামাদান মাসের সর্বোত্তম ইবাদতগুলাের
মধ্যে উল্লেখযােগ্য। একটি ইবাদত হল- সবসময় মুখে দোয়া-দরূদ ও যিকির-আযকার চালু রাখা। মনে রাখবেন,
দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্তগুলোতে, বিশেষত ইফতারের আগ মুহূর্তে সওম পালনকারীর দোয়া
আল্লাহ ও ফিরিয়ে দেন না।
রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ , প্রথম আকাশে অবতরণ করে ঘোষণা করেন-
هل من سائل فأعطيه هل من مستغفر واغفرله..... . .
ওহে! আছো কোন দারিদ্র্যপীড়িত ব্যক্তি, আমার কাছে
প্রার্থনা কর, আমি তোমার দারিদ্র্য দূর করে দেব। আছো কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।... [মুমনাদে আহমাদ : হাদীস নং ১৬৩২৩]
ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে
ইরশাদ করেছে-
كانوا
قليلا من الليل ما يهجعون_ وبالأسحار هم يستغفرون
তারা রাতের সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত; রাতের শেষ প্রহরে
তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত। [সূরা যারিয়াত : ১৭-১৮]
এ সকল সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ ফযীলত তাদের জন্য,
যাঁরা দোয়া
কবুলের মুহূর্তগুলো খুজে খুজে তার সদ্ব্যবহার করেন। যেমন- আযান ইকামতের মর্ধবর্তী সময়, জুমুআর দিন, মাগরিবের পূর্ব মুহূর্ত ইত্যাদি। আলহামদুলিল্লাহ! নারীদের মধ্যেও
অনেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিজেদের প্রস্তুত রাখেন এবং ইবাদত-বন্দেগী,
যিকির আযকার ও বিভিন্ন
পুণ্যময় কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এককথায় রামাদানের বিশেষ এক আমেজ তাদের মাঝে ফুটে ওঠে।
অপরদিকে বহু নারী এ মহৎ মাসে করণীয়ের প্রতি ভুক্ষেপ না করে সীমাহীন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকে। ইবাদত-বন্দেগীতে মনযোগ না দিয়ে বেপর্দায়, ক্ষেত্রবিশেষ অর্ধনগ্ন অবস্থায় বাইরে বের হয়। আবেদনময় ও আকর্ষণীয় পোশাক পরে বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনী বিতানে ঘুরে বেড়ায়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্যাশনের দামি দামি পোশাক পরে বাইরে ঘোরাঘুরি করে। আল্লাহ ও তাদের হেদায়েত করুন- তাদের কনুইসহ বাহুদ্বয় ও চোখমুখ সম্পূর্ণই খোলা থাকে। কোন প্রয়োজন নেই, তারপরও সেজেগুজে বাইরে বের হয়। পাশাপাশি এমন সুগন্ধি গায়ে মেখে বের হয়, যার সৌরভ চারদিকের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরুষদের মনে আকর্ষণ সৃষ্টি করে। অপরদিকে এক শ্রেণির যুবক রাতের বেলায় যুবতী রমণীদের পিছনে পিছনে ঘুরঘুর করে। কামাতুর দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। কী আশ্চর্য? এ শ্রেণির যুবকগুলো দিনের বেলায় অলস নিদ্রায় সময় কাটায় আর রাতের বেলায় শালীনতাপরিপন্থী ও গর্হিত কাজ করে বেড়ায়। দিনের বেলায় আল্লাহ তায়ালার সামনে নতনেত্রে সালাত আদায় করে আর রাতের বেলায় যুবতীদের পিছনে ঘুরঘুর করে!
আমার বুঝে আসে না, সেসকল যুবতী রমনীদের পিতা-মাতা, ভাই স্বামীই বা কোথায় থাকে, আর তাদের নিজেদেরই বা আত্মমর্যাদাবোধ কোথায় থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।
অপরদিকে বহু নারী এ মহৎ মাসে করণীয়ের প্রতি ভুক্ষেপ না করে সীমাহীন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকে। ইবাদত-বন্দেগীতে মনযোগ না দিয়ে বেপর্দায়, ক্ষেত্রবিশেষ অর্ধনগ্ন অবস্থায় বাইরে বের হয়। আবেদনময় ও আকর্ষণীয় পোশাক পরে বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনী বিতানে ঘুরে বেড়ায়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্যাশনের দামি দামি পোশাক পরে বাইরে ঘোরাঘুরি করে। আল্লাহ ও তাদের হেদায়েত করুন- তাদের কনুইসহ বাহুদ্বয় ও চোখমুখ সম্পূর্ণই খোলা থাকে। কোন প্রয়োজন নেই, তারপরও সেজেগুজে বাইরে বের হয়। পাশাপাশি এমন সুগন্ধি গায়ে মেখে বের হয়, যার সৌরভ চারদিকের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরুষদের মনে আকর্ষণ সৃষ্টি করে। অপরদিকে এক শ্রেণির যুবক রাতের বেলায় যুবতী রমণীদের পিছনে পিছনে ঘুরঘুর করে। কামাতুর দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। কী আশ্চর্য? এ শ্রেণির যুবকগুলো দিনের বেলায় অলস নিদ্রায় সময় কাটায় আর রাতের বেলায় শালীনতাপরিপন্থী ও গর্হিত কাজ করে বেড়ায়। দিনের বেলায় আল্লাহ তায়ালার সামনে নতনেত্রে সালাত আদায় করে আর রাতের বেলায় যুবতীদের পিছনে ঘুরঘুর করে!
আমার বুঝে আসে না, সেসকল যুবতী রমনীদের পিতা-মাতা, ভাই স্বামীই বা কোথায় থাকে, আর তাদের নিজেদেরই বা আত্মমর্যাদাবোধ কোথায় থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।


No comments
মন্তব্যের জন্য আল বেলায়েত মিডিয়া এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।