আল্লাহকে পাওয়ার উপায়

শেষ রাতে আল্লাহকে পাওয়ার উপায়

রাতের গভীরতা যে কোন কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি করেনিশুতি রাতে পিনপতন নীরবতা কাজে একাগ্রতা দেয়মন স্থীর রাখেএ সময়ের ইবাদতও আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয়যিকির-আযকার, কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ সবইঅলি-আউলিয়ারা রাতের শেষ প্রহরকে ইবাদত-বন্দেগির উত্তম সময় হিসেবে বেছে নিতেনএ সময়ে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবারা নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও মোরাকাবা করতেন

এ ছাড়া হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায় সারারাতই আল্লাহর দরবারে নামাজ, কান্নাকাটি, নফল ইবাদতে মশগুল থাকতেনতিনি শেষ রাতে বিভিন্ন নফল ইবাদত শেষে কিছুক্ষণ ঘুমাতেনতারপর উঠে ফজরের নামাজ আদায় করতেনসাহাবাদের অনেকে নবিজিকে অনুসরণ করে সারারাত ইবাদত করতেনযদিও নবিজি চাইতেন না তারা এতটা কষ্ট করুকরহমতের সময় হলো রাত ৩টা থেকে ফজরের আগ পর্যন্তএ সময় প্রকৃতি থাকে নীরব, পরিবার পরিজনও থাকেন ঘুমিয়েজাগতিক কোনো কাজকর্মেরও তাড়া থাকে নাফলে এ সময়ে আল্লাহর ধ্যান বা মোরাকাবা, নফল নামাজ আদায়, জিকির আজকার, দরুদ পাঠ ও তাসবিহ-তাহলিলের অতি উত্তম সময়গভীর রাতের এ ইবাদতগুলো এত মন দিয়ে করা যায় যে, এতে সাধকরা সাধনার সোপান অতিক্রমের উ‍কৃষ্ট সুযোগ পান।]

রাতের তৃতীয়াংশের ইবাদতের কথা কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে নির্দেশিত হয়েছেবলা হয়েছে, এ সময় আল্লাহতায়ালা বান্দার ডাকে অধিক সাড়া দেনতিনি বান্দাকে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন, তাকে ডাকতে বলেন, তার ইবাদত করে তার নৈকট্যলাভের আহ্বান করেনহজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের যখন শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, হে বান্দা! আমার কাছে প্রার্থনা করো, আমি তোমার প্রার্থনা কবুল করবআমার কাছে তোমার কি চাওয়া আছে, চাও, আমি তা দান করবআমার কাছে তোমার জীবনের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দেবসহিহ বোখারি : ৬৯৮৬
এভাবে আল্লাহতায়ালা ফজরের আগ পর্যন্ত তার বান্দাদের ডাকতে থাকেনআর যে বান্দা তার মাবুদ মাওলাকে ডাকার মতো ডাকতে পারেন, আল্লাহর নিকট কাকুতি মিনতি করতে পারেন, রহমতের আমলের বদৌলতে তার ভাগ্যের দরজা খুলে যায়এই রহমতের সময় যা কিছু আমল করা হয় তার সবগুলোই মূলত নফল ইবাদতফরজ ইবাদত পালন করা আমাদের অবশ্য কর্তব্যতাই নফল ইবাদতকে অতিরিক্তি কাজের সঙ্গে তুলনা করা যায়সে জন্য এর ফজিলত বেশিতাই সুযোগ পেলেই বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উত্তমঅনেকেই ফরজ পড়েই তড়িগড়ি করে নামাজ শেষ করে ফেলেন, নফল পড়ার দিকে গুরুত্ব দেন নাঅথচ হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে, তখন আমি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি, এমতাবস্থায় আমি তার কর্ণ হই, যদ্বারা সে শ্রবণ করে; আমি তার চক্ষু হই, যদ্বারা সে দর্শন করে; আমি তার হাত হই, যদ্বারা সে ধারণ করে; আমি তার পদযুগল হই, যদ্বারা সে হেঁটে বেড়ায়এমন অবস্থায় সে আমার কাছে যা কিছু চায় আমি সঙ্গে সঙ্গে তা দান করিসহিহ বোখারি : ৬০৫৮
শেষরাত বা রহমতের সময়ের ইবাদতে একাগ্রতা স্থাপন করা সহজহাদিসে আছে, ‘শেষ রাতে বান্দা আল্লাহপাকের খুবই নৈকট্য লাভ করে থাকে
শেষ রাতে নফল ইবাদত, তওবা-ইস্তেগফার, কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন আমল করে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মোনাজাত করলে আল্লাহ তায়ালা দয়া করে আমাদেরকে তার রহমতের ছায়াতলে জায়গা করে দেবেন বলে আশা করা যায়তাই আমাদের উচি রহমতের প্রহর শেষ রাতের আমলে প্রতি বিশেষভাবে যতœবান হওয়াআল্লাহ তায়ালা আমাদের শেষ রাতের বিভিন্ন আমলের প্রতি মনোনিবেশ করার তওফিক দান করুন

1 comment:

  1. আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শেষ রাতের আমল করার তৌফিক দান করুন।

    ReplyDelete

মন্তব্যের জন্য আল বেলায়েত মিডিয়া এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.