করোনা থেকে মুক্তির উপায়
করোনা থেকে মুক্তির উপায়
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِى
الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ
الَّذِى عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِى
الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ
الَّذِى عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে; যার ফলে তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তিনি
আস্বাদন করান যাতে তারা
ফিরে আসে| সূরা রূম (৩০) : ৪১
ব্যস, এ অবস্থায় আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসাই প্রত্যেক মুমিনের প্রধান কর্তব্য| আল্লাহ্র
দিকে ফিরে আসার অর্থ হল, শিরক ছেড়ে তাওহীদের দিকে আসা; অবাধ্যতা ছেড়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের দিকে আসা, গোনাহ ছেড়ে তাকওয়ার দিকে আসা, আল্লাহ তাআলার প্রতি উদাসীন হয়ে জীবন অতিবাহিত করা থেকে ফিরে আল্লাহ্র স্মরণের দিকে আসা, মিসকীনের
মত আল্লাহ্র দরবারে হাত তুলে কান্নাকাটি করা, মাফ চাওয়া ও
আফিয়াতের যিন্দেগী প্রার্থনা করা|
প্রতিটি মানুষ এবং প্রত্যেক শ্রেণির মানুষ নিজ নিজ হিসাব নেবে যে, আমার মধ্যে কী ত্রুটি আছে, আমি আল্লাহ্র
কোন্ নাফরমানিতে লিপ্ত আছি, আমি আমার খালেক ও সৃষ্টিকর্তার
কী হক নষ্ট করছি এবং আল্লাহ্র মাখলূকের কী কী হক নষ্ট করছি|
বিশেষত আমাদের এভাবে হিসাব নিতে হবে যে, সেই
অপরাধগুলো কী কী, যেগুলোর কারণে পূর্ববর্তী উম্মতের উপর
ব্যাপক আযাব নাযিল করে তাদেরকে একদম ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল| সেই
অপরাধগুলো কী কী, যেগুলোর কারণে রহমতের জায়গায় লানত আসে| শান্তি ও
নিরাপত্তার জায়গায় ভয়, শংকা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়| এরপর দেখতে
হবে,
আমাদের সমাজে সেগুলোর মধ্য থেকে কোন্ কোন্
অপরাধ বিদ্যমান|
সুতরাং
আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসার অর্থ হল, এসব অপরাধ থেকে
আমরা নিজেরা বের হয়ে আসব এবং সমাজকে এসব অপরাধ থেকে পবিত্র করার কর্মপন্থা গ্রহণ
করব|
মাপে কম দেওয়া, অশ্লীলতার বিস্তার, হত্যা, লুণ্ঠন, যুলুম ও খেয়ানতের বিস্তার, সুদ-ঘুষের লেনদেন, খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র ও বাসস্থান হারাম উপার্জনের হওয়া, অবৈধ মজুতদারি, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও তা গ্রহণ করা, দেশে কুরআন-সুন্নাহ ও শরয়ী আহকামের বিপরীত আইন বাস্তবায়ন হওয়া ও আদালতে
তদনুযায়ী ফায়সালা হওয়া এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হদ (দ-বিধি) বাস্তবায়ন
না হওয়া|
এগুলো এমনসব অপরাধ, যেগুলো সকল বিপদাপদের মূল| অবশ্য তার অনুভূতি আমাদের তখন হয় যখন এই
বিপদাপদ ও মসিবত মহামারি বা অন্য কোনো বাহ্যিক বড় বিপদের আকারে প্রকাশিত হয়| নতুবা আমরা
গাফলত ও উদাসীনতার ঘুমে ডুবে থাকি| আমাদের খবরই নেই যে, সামাজিক অবক্ষয়, শান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা এবং মুসলিম উম্মাহ্র
লাঞ্ছনা ইত্যাদি বিষয়গুলো অত্যন্ত কঠিন আযাব; যে আযাবে আমরা উপরোক্ত অপরাধসমূহের কারণে তলিয়ে যাচ্ছি| এই আযাব
মহামারিসহ অন্যান্য আসমানী দুর্যোগ ও বাহ্যিক ব্যাপক বিপদাপদের চেয়ে বহু গুণ এর একমাত্র সমাধান হল, দ্বীন-শরীয়ত কবুল করা এবং সমাজে তা বাস্তবায়ন করা|
হযরত আবদুল্লাহ
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন
لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطّ، حَتّى يُعْلِنُوا
بِهَا، إِلّا فَشَا فِيهِمُ الطّاعُونُ، وَالْأَوْجَاعُ الّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ
فِي أَسْلَافِهِمُ الّذِينَ مَضَوْا، وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ
وَالْمِيزَانَ، إِلّا أُخِذُوا بِالسِّنِينَ، وَشِدّةِ الْمَئُونَةِ، وَجَوْرِ
السّلْطَانِ عَلَيْهِمْ، وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ، إِلّا مُنِعُوا
الْقَطْرَ مِنَ السّمَاءِ، وَلَوْلَا الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا، وَلَمْ
يَنْقُضُوا عَهْدَ اللهِ، وَعَهْدَ رَسُولِهِ، إِلّا سَلّطَ اللهُ عَلَيْهِمْ
عَدُوّا مِنْ غَيْرِهِمْ، فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَمَا لَمْ
تَحْكُمْ أَئِمّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ، وَيَتَخَيّرُوا مِمّا أَنْزَلَ اللهُ،
إِلّا جَعَلَ اللهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ.
যখন কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে এমনকি তারা সেগুলো প্রচার করতে
থাকবে,
তখন তাদের মধ্যে তাউন (প্লেগ) মহামারি আকারে
দেখা দেবে এবং এমন সব ব্যাধি ও কষ্ট ছড়িয়ে পড়বে, যা আগের মানুষদের মাঝে দেখা যায়নি|
যখন কোনো
সম্প্রদায় ওজন ও মাপে কম দেবে তখন তাদের উপর নেমে আসবে দুর্ভিক্ষ, কঠিন অবস্থা এবং শাসকের যুলুম-অত্যাচার|
যখন কোনো কওম তাদের সম্পদের যাকাত আদায় করবে না তখন তাদের প্রতি আকাশ থেকে
বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে যাবে| যদি জন্তু-জানোয়ার না থাকত তাহলে আর বৃষ্টিপাত হতো না| আর যখন কোনো জাতি আল্লাহ্র ও তাঁর রাসূলের
অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে তখন আল্লাহ তাদের উপর কোনো বহিঃশত্রু চাপিয়ে দেবেন...
যখন কোনো সম্প্রদায়ের শাসকবর্গ আল্লাহ্র কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবে না আর
আল্লাহ্র নাযিলকৃত বিধানসমূহের কিছু গ্রহণ করবে আর কিছু ত্যাগ করবে তখন আল্লাহ
তাদেরকে পরস্পর যুদ্ধ বিগ্রহ ও বিবাদে জড়িয়ে দেবেন| সুনানে ইবনে
মাজাহ,
হাদীস ৪০১৯; হাদীসটি হাসান
মোটকথা, আমাদের প্রথম কাজ : তাকদীরের আকীদা মনে জাগ্রত রাখা এবং
তাকদীরের প্রতি ঈমান মজবুত করা|
দ্বিতীয় কাজ
: আল্লাহ্র উপর তাওয়াক্কুল করা এবং ঈমানী শক্তি জাগ্রত করা|
তৃতীয় কাজ :
তওবা করা এবং আল্লাহমুখী হওয়া|
চতুর্থ কাজ
: দুআ ও যিকিরের প্রতি মনোযোগী হওয়া|
বিশেষত সেসকল দুআর প্রতি গুরুত্বারোপ করা, কুরআন-হাদীসে যেগুলোর শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং যেগুলোর এই বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা
হয়েছে যে, এগুলোর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ্র রহমতে বিপদাপদ
থেকে মুক্ত থাকে| উদাহরণস্বরূপ
১. সূরা
ফাতেহা একবার বা সাতবার পড়ে নিজের উপর দম করা|
২. প্রত্যেক
নামাযের পর কুরআনে কারীমের শেষ তিন সূরা (সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস) একবার একবার পড়া|
৩.
সকাল-সন্ধ্যা এই তিন সূরা (সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস) তিন বার করে নয় বার পড়া|
৪. শোবার
সময় এই সূরাগুলো এভাবে পড়বে
উভয় হাত চেহারার সামনে রেখে (যেভাবে দুআর সময় করা হয়) একবার একবার তিন সূরা-ই পড়বে| এরপর হাতে
দম করে উভয় হাত দ্বারা সারা শরীর যতটুকু সম্ভব মুছবে| এভাবে
তিনবার করবে|
৫. প্রতি নামাযের পর একবার আয়াতুল কুরসী পড়–ন| শোবার সময়ও আয়াতুল কুরসী পড়–ন| আয়াতুল কুরসী হল সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত|
৬. কতিপয়
সংক্ষিপ্ত দুআ :
ক.
সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়–ন
اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ
سَمْعِيْ، اللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، اللّٰهُمَّ
إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ
بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ .
আয় আল্লাহ! আপনি আমাকে শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন| আয় আল্লাহ!
আমার শ্রবণে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন| আমার দৃষ্টিতে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন| আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই|
আয় আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি কুফুরী ও দারিদ্র্য থেকে| আয় আল্লাহ!
আমি আপনার নিকট পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে| আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই| সুনানে আবু
দাউদ,
হাদীস ৫০৯০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৪৩০; আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৭০১
খ. যখন
পারেন,
যতবার পারেন, এই দুআ পড়–ন
لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ اِنِّیْ كُنْتُ مِنَ
الظّٰلِمِیْنَ.
আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই| আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি| নিশ্চয় আমি
অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত| সূরা আম্বিয়া (২১) : ৮৭
এ সময় নিজের অপরাধ স্মরণ করে এবং নিজেকে অপরাধী ভেবে এ দুআ যত বেশি পড়া যায়
ততই ভালো|
গ.
সকাল-সন্ধ্যা তিনবার পড়–ন
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَيْءٌ فِي
الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ.
আল্লাহ তাআলার নামে, যাঁর নাম সঙ্গে থাকলে যমিন ও আসমানের কোনো
বস্তু ক্ষতিসাধন করতে পারে না| আর তিনি সবকিছু শোনেন এবং জানেন|জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৩৮৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৮৮
ঘ. সন্ধ্যায়
তিনবার পড়–ন| (সকালে পড়লেও সমস্যা নেই)
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.
আমি আল্লাহ্র পূর্ণ কালিমাসমূহের সাহায্যে তাঁর সকল সৃষ্টির অকল্যাণ-অনিষ্ট
থেকে পানাহ গ্রহণ করছি| সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭০৮
ঙ.
সকাল-সন্ধ্যা সাতবার পড়–ন
حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ
وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.
আামার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোনো
ইলাহ নেই| তাঁর উপরই আমি ভরসা করছি| তিনি মহান আরশের রব| সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৮১
চ. যে কোনো
সময় যতবার সম্ভব পড়–ন
لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ
مَنْجَأَ مِنَ اللهِ إلاَّ إِلَيْهِ.
আল্লাহর তাওফীক ছাড়া পাপ পরিহার করা এবং নেক কাজ করার শক্তি নেই| তাঁর আশ্রয় ব্যতীত তাঁর পাকড়াও থেকে বাঁচার
কোনো উপায় নেই| মুসনাদে
বাযযার,
হাদীস ৯৬৩৫
ছ.
সকাল-সন্ধ্যায় পড়–ন
يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ، أَصْلِحْ لِيْ
شَأْنِيْ كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِيْ إِلى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ.
হে চিরঞ্জীব, হে সৃষ্টিকুলের নিয়ন্ত্রক, আপনার রহমতের দোহাই দিয়ে আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, আপনি আমার সকল বিষয় শুদ্ধ করে দিন, এক মুহূর্তের জন্যও আপনি আমাকে আমার উপর ছেড়ে দিয়েন না| সুনানে কুবরা, নাসাঈ, হাদীস ১০৩৩০; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ২০০০
জ. যে কোনো
সময় যতবার সম্ভব পড়–ন
اللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ، فَلَا تَكِلْنِيْ إِلٰى نَفْسِيْ
طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ.
আয় আল্লাহ! আপনার রহমতেরই প্রত্যাশী আমি| তাই আপনি
আমাকে আমার উপর ন্যস্ত করবেন না| আপনি আমার সকল বিষয় পরিশুদ্ধ করে দিন| আপনি ছাড়া
কোনো ইলাহ নেই| সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৯০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৪৩০
ঝ.
সকাল-সন্ধ্যায় ও আযান-ইকামতের মাঝে পড়–ন
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي
الدُّنْيَا وَالْآخِرَة
اللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِينِيْ
وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ وَمَالِيْ
اللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ، وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ،
وَاحْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَمِينِيْ، وَعَنْ
شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ.
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্ত প্রার্থনা করছি
হে আল্লাহ!
আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাচ্ছি, আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদে
হে আল্লাহ!
আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন| আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়| আমাকে হেফাযত করুন সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান থেকে, বাম থেকে, উপর থেকে; এবং আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি নিচ হতে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে| সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৮৭১
এটা জরুরি নয় যে, সকলকে সবক’টি দুআই পড়তে হবে| বরং যার জন্য যে দুআ সহজ তিনি তা-ই পড়–ন| যার সবগুলো পড়ার তাওফীক হয়, তিনি সবগুলোই পড়–ন| মূলকথা হল, আল্লাহ্র প্রতি মুতাওয়াজ্জেহ হয়ে ও আল্লাহমুখী হয়ে মনের
উপলব্ধি জাগরূক রেখে অন্তর থেকে চাওয়া, আল্লাহ্র আশ্রয় গ্রহণ করা
এছাড়া ইস্তিগফার ও দরূদ শরীফেরও ইহতিমাম করা চাই আর সময়-সুযোগ করে দু’রাকাত
সালাতুল হাজত পড়ে দুআর ইহতিমাম করলে তা অনেক ভালো| আল্লাহ
তাআলা বলেন
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اسْتَعِیْنُوْا بِالصَّبْرِ وَ
الصَّلٰوةِ اِنَّ اللهَ مَعَ الصّٰبِرِیْنَ .
হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর| নিশ্চয় আল্লাহ সবরকারীদের সাথে রয়েছেন| সূরা বাকারা (২) : ১৫৩
আসমায়ে হুসনা থেকে কিছু নামের ওযীফা বেশি পরিমাণে আদায় করলেও তা অনেক উপকারী| যেমন
يَارَحْمنُ হে দয়ালু মেহেরবান, يَارَحِيْمُ হে পরম করুণাময়, يَاسَلَامُ হে সালাম (শান্তির ব্যবস্থাকারী), يَاقَوِيُّ হে শক্তির আধার, يَامُؤْمِنُ হে নিরাপত্তা দানকারী, يَامُهَيْمِنُ হে রক্ষাকর্তা, يَاحَفِيْظُ হে হেফাযতকারী, يَاوَدُوْدُ হে প্রেমময়, يَاغَفُوْرُ হে ক্ষমাকারী, يَاذَاالْجَلٰلِوَالْاِكْرَامِ হে মহিমাময়, মহানুভব, يَامَانِعُ হে প্রতিরোধকারী|
যখন যে নামে আল্লাহ তাআলাকে ডাকতে চান ডাকুন| আল্লাহ
আপনার ডাক কবুল করতে প্রস্তুত| আল্লাহ তাআলা বলেন
قُلِ ادْعُوا اللهَ اَوِ ادْعُوا الرَّحْمٰنَ اَیًّا مَّا
تَدْعُوْا فَلَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی.
হে নবী আপনি বলে দিন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাক অথবা রহমান নামে ডাক; তোমরা যে নামেই ডাক (একই কথা), কেননা সমূহ সুন্দর নাম তো তাঁরই| সূরা ইসরা (১৭) : ১১০
আরো ইরশাদ
হয়েছে
وَ اِذَا سَاَلَكَ عِبَادِیْ عَنِّیْ فَاِنِّیْ قَرِیْبٌ
اُجِیْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ فَلْیَسْتَجِیْبُوْا لِیْ وَ
لْیُؤْمِنُوْا بِیْ لَعَلَّهُمْ یَرْشُدُوْنَ .
আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো নিকটেই| প্রার্থনাকারী
যখন আমাকে ডাকে তখন তার ডাকে আমি সাড়া দিই| অতএব তারাও
আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক; যাতে তারা সঠিক পথে এসে যায়| সূরা বাকারা (২) : ১৮৬
এ আয়াতে দুআ কবুল হওয়ার যেমন সুসংবাদ রয়েছে, পাশাপাশি আমাদের কর্তব্যের বিষয়ও বিবৃত হয়েছে| অর্থাৎ যখনই আল্লাহ্র ডাক আসবে তখনই সে ডাকে
লাব্বাইক বলা এবং তাঁর বিধানের সামনে সমর্পিত হওয়া আমার কর্তব্য|
রোগ-শোক থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য যেসব দুআ শেখানো হয়েছে মুনাজাতেও সেগুলো বলুন| পাশাপাশি এ বিষয়গুলোও মুনাজাতে চাইতে থাকুন (উাদাহরণস্বরূপ)
اللّٰهُمَّ جَنِّبْنِيْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ، وَالْأَهْوَاءِ،
وَالْأَعْمَالِ وَالْأَدْوَاءِ.
আয় আল্লাহ! আপনি আমাকে মন্দ স্বভাব, মন্দ প্রবৃত্তি, মন্দ কর্ম এবং মন্দ রোগ-ব্যাধি থেকে দূরে
রাখুন| মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৯০৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৯৬০
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ البَرَصِ، وَالْجُنُوْنِ،
وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ.
আয় আল্লাহ! আমি আপনার নিকট শে^তরোগ, পাগল হওয়া, কুষ্ঠ রোগ এবং সকল
প্রকার জটিল রোগ থেকে আশ্রয় গ্রহণ করছি| সুনানে আবু
দাউদ,
হাদীস ১৫৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৩০০৪
পঞ্চম কাজ : পাক-পবিত্র, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মার্জিত ও পরিপাটি থাকা| এগুলো
ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা| ইসলামের
দৃষ্টিতে এগুলো স্বতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল| পাশাপাশি
সুস্থতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অপরিসীম| তাই এ
বিষয়গুলোর প্রতি সর্বাবস্থায়ই যতœবান থাকা চাই|
ষষ্ঠ কাজ :
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা|
ইসলাম আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত দ্বীন ও ধর্ম|এ দ্বীন পূর্ণাঙ্গ এবং পরিপূর্ণ|এর
বিধানগুলোও পরিপূর্ণ এবং সর্বকালীন| এজন্য এর
শিক্ষা ও বিধান খুবই যৌক্তিক, খুবই সহজ এবং খুবই
স্বভাবজাত হয়ে থাকে| এ কারণেই ইসলাম চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়ার এবং তাদের
পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছে| তবে দুই শর্তে|
এক. তাদের
পরামর্শ শরীয়তের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া|
দুই. বৈধ
উপকরণ হিসাবে তা গ্রহণ করা|
নতুবা সুস্থতা, সুরক্ষা ও আরোগ্যের ক্ষেত্রে প্রধান কর্তব্য
হল,
আল্লাহ্র উপর ভরসা রাখা| তিনিই খালিক, তিনিই মালিক, তিনিই রাব্বুল আলামীন| একমাত্র তিনিই আমাদের মাওলা ও অভিভাবক এবং তিনিই আমাদের
সবকিছু|


No comments
মন্তব্যের জন্য আল বেলায়েত মিডিয়া এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।